
গ্রামীণ চিকিৎসা সেবায় বিশেষ অবদান রাখায় স্বাধীনতাপদক প্রাপ্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ও ময়মনসিংহের গৌরীপুরের ডা. মুকতাদির চক্ষু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. এ কে এম এ মুকতাদিরকে শনিবার (২৯ আগস্ট/২৬) রাতে সংবর্ধিত করা হয়েছে। তাঁকে ক্রেস্ট, সম্মাননা স্মারক, মানপত্র ও উপঢৌকন দিয়ে সাংবাদিক নেতবৃন্দ সংবর্ধিত করেন। তিনি এ সময় গৌরীপুর প্রেস ক্লাবের দ্বিতল ভবন নির্মাণের জন্য এক লাখ টাকার নগদ অনুদান, পুরাতন ভবনের জন্য আড়াইটনের এসিসহ সাংবাদিকদের কল্যাণে সহযোগিতার আশ^াস দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কবে কখন চলে যাই- সেইটা জানি না। আমার সাথে যাঁরা যুদ্ধ করেছিলো তারা প্রায় সবাই চলে গেছেন, আমি তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছিএ। সেই সাথে আমিও আপনাদেরকে আমার জানাযার আমন্ত্রণ জানিয়ে গেলাম।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৬ সাল থেকে আমি বিনামূল্যে দরিদ্র রোগীদের ছানি অপারেশন শুরু করি। চিকিৎসা জীবনের দীর্ঘ ৫০ বছরে এক লাখ ত্রিশ হাজারের বেশি রোগীকে বিনামূল্যে ছানি অপারেশন করিয়েছি। গ্রামে চক্ষু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে এখনো মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। দেশের সর্বোচ্চ বেসমারিক পুরস্কার স্বাধীনতা পদক সহ দেশ বিদেশে অনেক সম্মাননা পেয়েছি। আমি আল্লাহর কাছে যা চেয়েছি তার চেয়ে বেশি পেয়েছি। আজকে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে আমাকে যে সম্মাননা দেয়া হয়েছে তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি বেগ ফারুক আহাম্মেদ। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিবুল ইসলাম। বক্তব্য দেন নান্দাইলের সহকারী শিক্ষা অফিসার রেনেন্থেরা সুলতানা, গোলকপুর পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্যাসিফ্লোরা সুলতানা নূপুর, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম মিন্টু, কাজী আব্দুল্লাহ আল-আমিন, সাবেক আহŸায়ক মো. রইছ উদ্দিন, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার রবিন, আনোয়ার হোসেন শাহীন, শেখ মো. বিপ্লব, সহ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, অর্থ সম্পাদক শামীম খান, তিলক রায় , আরিফ আহমেদ প্রমুখ।
ডা. এ.কে.এম.এ মুকতাদির চিকিৎসায় বিশেষ অবদানের জন্য ২০২০সনে তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়। দেশে গ্রামীণ এলাকায় চোখের চিকিৎসায় অসামান্য অবদানের জন্য ভারতের বিলাসপুরে ২০২৩সনের ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত অল ইন্ডিয়া অফথালমোজিক্যাল সোসাইটি (অওঙঝ)-এর সম্মেলনে ‘গুরু পুজান’ পদক করেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডা. এ.কে.এম.এ মুকতাদিরের বিনামূল্যে এ চিকিৎসা কার্যক্রমের জন্য তিনি ২০১৬সালের ২২ অক্টোবর তিনি ভারতের তিরুচিরাপল্লীতে এ্যাসোসিয়েশন অফ কমিউনিটি অফথ্যালমলোজি ইন ইন্ডিয়া আয়োজিত অনুষ্ঠানে লাইফ টাইম এ্যাচিভমেন্ট এ্যাওয়ার্ড, চক্ষু চিকিৎসা ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৪ সালে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এ্যাওয়ার্ড, ২০০২সালে লায়ন্স এফ্রিসিওয়ান এ্যাওয়ার্ড, ২০০৫সালে এএফএও কর্তৃক ডিসটিংগোয়িং সার্ভিস এ্যাওয়ার্ড, একেদাস এ্যান্ডওমেন্ট এ্যাওয়ার্ড, ২০১৫সালে ভারতে গোল্ডমেডেলসহ দেশ ও বিদেশে ১৯টি এ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। তিনি ও তারই সহধর্মিণী ডা. মাহমুদা খাতুনের সহযোগিতায় গড়ে উঠে উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে ডাঃ মুকতাদির চক্ষু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি ও তার সহধর্মীনী অধ্যাপিকা ডা. মাহমুদা খাতুনের সহযোগিতায় নিজ জন্মভূমিতে ২০০৪ সনে গড়ে তোলেন ডা. মুকতাদির চক্ষু হাসপাতাল। তাঁরই অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে তোলা হাসপাতালটিতেও ইতোমধ্যে কয়েক লাখ মানুষ চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। তিনি ১৯৭৭সন থেকে ২০০৩ইং সন পর্যন্ত গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় বিনামূল্যে চক্ষু অপারেশন ক্যাম্পে ৯হাজার ৫শ ৩৫জনের অপারেশন সম্পন্ন করেন। এই হাসপাতালে ১৫ বছরে বিনামূল্যে চোখের জ্যাতি ফিরে পান ৭হাজার ৯শ ৪৬জন। দৈনন্দিন অপারেশন করা হয়েছে ছানি অপারেশন ৩২হাজার ২শ ১৯জন, নালি অপারেশন ৪হাজার ১৭৮জন, চোখের মাংস বৃদ্ধির অপারেশন ১হাজার ৯২৮জন, গেøাকোমার ১হাজার ৯৫২জন, নেত্রনালির ১হাজার ৯৪৮জন, চোখে পাথর সংযোজন ৬১২জন, চোখের পাতার অপারেশন ৬৮৯জন, গুটি অপারেশন ৪৮৭জন, টিউমার অপারেশন ৫৯৮জন, টেরা চোখ অপারেশন ৮২জন।
তিনি আরও জানান, ডা. মুকতাদির চক্ষু হাসপাতালকে আরো অত্যাধুনিক ১০০ বেডের চিকিৎসার পাশাপাশি চক্ষু জাদুঘর গড়ে তোলবেন এ হাসপাতালে। যেখানে চোখের যন্ত্রাংশ ছাড়াও চোখ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে।